1. jfjoy24@gmail.com : admin :
  2. wordpressdefaults@gmail.com : defaults :
দিনাজপুরে ভুয়া নারী ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেপ্তার | তিস্তা সংবাদ
বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ১২:০১ পূর্বাহ্ন

দিনাজপুরে ভুয়া নারী ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেপ্তার

প্রতিনিধি
  • আপডেট বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০২১
  • ১৫১

রংপুরে অভিনব কায়দায় অবসরপ্রাপ্ত এক কারা প্রশিক্ষকের কাছ থেকে ৪২ হাজার টাকা, ঘড়ি আংটি ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক ভুয়া নারী ম্যাজিস্ট্রেটকে দিনাজপুরের ফুলবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।

৫-৬ মাস আগে সৈয়দপুর এয়ারপোর্টে ওই নারীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল আরজু মিয়ার। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ২ আগস্ট রংপুরের জেলা প্রশাসকের বাস ভবনের সামনে আরজু মিয়াকে ডেকে নেন এক নারী। কিন্তু সেখানে যাওয়া মাত্র ওই নারীসহ সুস্থ জীবন নামে একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক রিংকু ও রাসেদসহ লোকজন তাকে ধরে নিয়ে যায় নিরাময় কেন্দ্রে।

এসময় তার কাছে থাকা ৪২ হাজার টাকা, ঘড়ি, আংটি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স কেড়ে নিয়ে ওই নারীকে দেন তারা। নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট ও আরজু মিয়াকে নিজের ভাই ও মাদকাসক্ত দাবি করে চিকিৎসার জন্য সেখানে রেখে চলে যান ওই নারী।
নিরাময় কেন্দ্রের কর্মচারীরা জানান, পরবর্তীতে খোঁজ পেয়ে আরজু মিয়ার পরিবারের সদস্যরা ওই নিরাময় কেন্দ্র গিয়ে আরজু মিয়া ওই নারীর কেউ নন দাবি করলে তাদেরও সন্দেহ হয়। তারা আরজু মিয়ার ডোপ টেস্ট করে নিশ্চিত হন তিনি মাদকাসক্ত নন। কিন্তু ততক্ষণে খবব পেয়ে পিবিআই এসে সেখান থেকে আরজু মিয়াকে উদ্ধার করে। পাশাপাশি নিরাময় কেন্দ্রের দুই পরিচালক রিংকু ও রাসেদকে আটক করে নিয়ে যায়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দিনাজপুরের ফুলবাড়ি থেকে অনিমা ওরফে আনিকা তাসনিমকে গ্রেপ্তার করে।
বৃহস্পতিবার (০৫ আগস্ট) দুপুরে পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন। তিনি বলেন, গত ২ আগস্ট রংপুর নগরীর সিও বাজারের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন রংপুর কারাগারের সাবেক সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর আনজু মিয়া (৫১)।
এ ঘটনায় আনজু মিয়ার স্ত্রী রংপুর মেট্রোপলিটন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন ৩ আগস্ট পিবিআইয়ের একটি টিম নিখোঁজ আনজু মিয়াকে রংপুর নগরীর ডিসির মোড়ে অবস্থিত ‘সুস্থ জীবন মাদক নিরাময় কেন্দ্র’ থেকে উদ্ধার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে আনজু জানান, গত ৬ মাস আগে বিমানে ভ্রমণের সময় অনামিকার সঙ্গে পরিচয় ও ব্যক্তিগত ফোন নম্বর আদান-প্রদান হয় আনজু’র। এরপর ২ আগস্ট সকালে অনামিকা ফোনে আনজুকে জিলা স্কুলের গেটে ডেকে পাঠান। সেখানে একটি নোহা গাড়িতে বসে থাকা অনামিকাকে দেখে আনজু এগিয়ে গেলে ২-৩ জন অপরিচিত ব্যক্তি তাকে ঘিরে ফেলে এবং জোরপূর্বক পার্শ্ববর্তী সুস্থ জীবন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যায়। এরপর আনজুর দেহ তল্লাশি করে নগদ ৪৪ হাজার ২৫০ টাকা এবং হাতঘড়ি, স্বর্ণের আংটি, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিনিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে আনজু আটককারীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, অনামিকার অনুরোধে মাদকাসক্তের চিকিৎসার জন্য নিরাময় কেন্দ্রে আনা হয়েছে। এরপর জব্দকৃত টাকা ও স্বর্ণের জিনিসপত্র অনামিকা নিয়ে বাকি কাপড় চোপড় ও আনজুর মোটরসাইকেল ভাই এসে নিয়ে যাবে বলে সটকে পড়ে অনামিকা। এরই মধ্যে নিরাময় কেন্দ্র থেকে আনজুর ডোপ টেস্টও করা হয়। এদিকে আনজু’র নিখোঁজের বিষয়টি পিবিআইয়ের নজরে আসলে ৩ আগস্ট তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে তাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর পিবিআইয়ের সদস্যরা দিনাজপুর থেকে আনিকা তাসনিম ওরফে অনামিকাকে গ্রেপ্তার করেন।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, কথিত নারী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেয়া প্রতারক অনামিকা সরকার ও অন্যান্য সদস্যরা ছদ্মবেশে নিত্য নতুন প্রতারণা করে মানুষকে ঠকিয়ে থাকে। এদের নামে বিভিন্ন থানায় মামলাও রয়েছে। এ মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত অনামিকাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আপনার স্যোসাল মাধ্যমে শেয়ার দিন

এই বিভাগের আরো খবর
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | তিস্তা সংবাদ.কম
Theme Customization By NewsSun