1. jfjoy24@gmail.com : admin :
  2. wordpressdefaults@gmail.com : defaults :
টেপ্রীগঞ্জে পৈত্রিক সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনদের ষড়যন্ত্র: সর্বশান্ত ভুক্তভোগী ভাই ও তার স্ত্রী-সন্তানরা | তিস্তা সংবাদ
মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১২:১৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রংপুরে ডাক্তার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাকিরের বিরুদ্ধে পিস্তল উঁচিয়ে প্রতিবেশীকে হুমকি, (জিডি) নথিভুক্ত পীরগাছায় উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত গঙ্গাচড়ায় শেখ হাসিনা সেতুর কার্পেটিংয়ে ফাটল, ভারী যানবাহনে নিষেধাজ্ঞা রংপুরে মরিচক্ষেত থেকে অজ্ঞাত যুবকের মর*দেহ উদ্ধার রংপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে ঈদ ক্রিকেট ফেস্টিভ্যালের পুরুষ্কার বিতরণ ঈদে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর আলী বাবা থিম পার্ক বিনোদন কেন্দ্র বিষাক্ত সাপ রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক, বন বিভাগের ৭ পরামর্শ দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে শেখ হাসিনাকে রাজকীয় সংবর্ধনা তিস্তায় নৌকাডুবি: দ্বিতীয় দিনের অভিযান শেষ, এক পরিবারের ৪ জনসহ এখনও নিখোঁজ ৬

টেপ্রীগঞ্জে পৈত্রিক সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনদের ষড়যন্ত্র: সর্বশান্ত ভুক্তভোগী ভাই ও তার স্ত্রী-সন্তানরা

প্রতিনিধি
  • আপডেট বুধবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৩০

 

 

পৈত্রিক সম্পত্তি -ঘরবাড়ি দখলে নেয়ার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করে আপন বোনেরা তাদের ভাইকে নেশাখোর বানিয়ে অপহরণ করে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন! অতপর ভাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালিয়েছেন, সেইসাথে ভাইয়ের জমিতে হালচাষও করেছেন! এদিকে মাদকাসক্ত না হয়েও মিথ্যা গ্লানী নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সেই ভুক্তভোগী ভাই! বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে নানা নাটকীয়তা শেষে নিজেরাই উকিল-আমীন ডেকে মনগড়া বাটোয়ারা করেছেন অভিযুক্ত বোনেরা! যা মেনে নিতে পারছেন না ভুক্তভোগী ভাই ও স্ত্রী-সন্তানরা।

 

ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানাধীন টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বলরামপুর সবুজপাড়া এলাকায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় স্বামী অপহরণের একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়াও হয়রানীর অভিযোগ ও নিরাপত্তা চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেন।

আবেদনে ভুক্তভোগীর স্ত্রী তিনি লিখেন, আমি মোছা: নুরজাহান বেগম (৪০), স্বামী- মো: পারভেজ পলাশ, সাং-টেপ্রীগঞ্জ বলরামপুর (প্রগতী পাড়া), থানা-দেবীগঞ্জ, জেলা- পঞ্চগড়। আমার স্বামী পেশায় একজন ব্যবসায়ী। টেপ্রীগঞ্জ বাজারের পাশেই আমার স্বামীর একটি রড-সিমেন্ট এর দোকান রয়েছে। প্রতিদিনের ন্যায় ঘটনার দিন গত ১৪/১২/২০২৩ ইং তারিখ বৃহস্পতিবার অনুমানিক সকাল ৮.৩০ টার সময় আমার স্বামী সকালে বাড়ী হতে দোকান খোলার উদ্দেশ্যে বাজারে রওনা করেন। তারিখ বিকাল আনুমানিক ৩ টা বেজে গেলেও আমার স্বামী দুপুরের নাওয়া-খাওয়া করার জন্য বাড়ীতে না আসলে আমি আমার স্বামীকে তার ব্যক্তিগত  মোবাইল নম্বরে কল করলে তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাই। পরবর্তীতে আমিসহ আমার বাড়ীর লোকজন আমার স্বামীর দোকানে গিয়ে দেখি আমার স্বামীর মোবাইল ফোনটি বন্ধ অবস্থায় দোকানের ক্যাশ বাক্সে পড়ে রয়েছে।

এছাড়াও পরিলক্ষিত হয় যে, আমার স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালানো হয়েছে। ক্যাশ বাক্স ও কাগজপত্র এলামেলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলো। দোকানের আয়-ব্যায় ও বাকি হিসাবের খাতার পাতা ছেড়া ছিল। আশপাশে আমার স্বামী কোথাও নাই। আমিসহ আমার বাড়ীর লোকজন আমার স্বামীকে টেপ্রীগঞ্জ বাজারসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে এমনকি আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ীতে খোঁজাখুজি করি। কিন্তু আমার স্বামীকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে আমার আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সাথে পরামর্শে দেবীগঞ্জ থানায় একটি অপহরণের অভিযোগ দায়ের করি। অত্যান্ত দুঃখের সাথে আপনাকে অবগত করছি যে, এবিষয়ে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ কোন ধরণের সহায়তা প্রদান করে নাই।

পরবতিতে ১৫/১২/২০২৩ ইং তারিখ সকাল ৮ টার সময় জানা যায়, আমার স্বামীকে আমার শ্বাশুড়ী এবং আমার ননদ জোর করে তুলে নিয়ে রংপুরের স্নেহা মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র, রংপুরে ভর্তি করেছেন। আমার স্বামীকে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর বিষয়ে স্ত্রী হিসেবে আমাকে না জানিয়ে একপ্রকার অপহরণ করে এমন ঘৃণ্য কাজ করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে, আমার স্বামী কখনো মাদক সেবন করতেন না। পারিবারিক সম্পত্তির বিরোধ নিয়ে উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিতভাবে আমার স্বামীকে পাগল বানিয়ে ফেলার চক্রান্তে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে, আমার স্বামীকে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়ে তারা আমাদের জমিতে হালচাষ শুরু করেন। সেইসাথে আমার স্বামীর বাড়িঘর জবর দখলে নিয়ে আমাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করার পায়তারা শুরু করেন এবং নানাভাবে হয়রানি ও অত্যাচার করতে থাকেন। পরবর্তিতে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানা পুলিশি সহায়তায় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে আমার স্বামীকে নিজ বাড়ীতে নিয়ে আসি। এমন ঘটনায় আরো ক্ষীপ্ত হয়ে ষড়যন্ত্রকারিরা আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানীসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জানে মেরে ফেলার হুমকি-ধামকী দিয়ে আসছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, আমার স্বামীর এক বোন (শাকিলা আলম ফেন্সি) বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি বিভাগ, নীলফামারীতে কর্মরত আছেন। তিনি তার পুলিশি ক্ষমতা প্রদশন করে এলাকায় মামলা-হামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে অরাজকতাসহ এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন। বর্তমানে আমার স্বামী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ পরিবার পরিজন নিয়ে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিনাতিপাত করছি।

ভুক্তভোগী পারভেজ পলাশ বলেন, বাবার পৈত্রিক সম্পত্বি এবং বাড়িভিটা দখলে নেয়ার জন্য আমার বোনেরা মিথ্যা মামলা মোকাদ্দমায় ফাঁসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা হয়রানী করে আসছেন। ঘটনার দিন রাস্তা থেকে মুখ বেঁধে আমাকে মাইক্রোবাসে তুলে রংপুরে নিয়ে আসা হয় এবং একটি মাদকাশক্ত নিরাময় কেন্দ্রে রাখা হয়। পরে মাদকাশক্ত না হওয়ায় আমাকে আমার স্ত্রী-সন্তানের মাধ্যমে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। বাড়িতে এসে জানতে পারি আমার অনুপস্থিতিতে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালানো হয়েছে এবং ব্যবসায়ীক মহাজনকে দেয়ার জন্য আমার ক্যাশবাক্সে রাখা ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও আমার জমিতে হালচাষ করা হয়েছে। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকায় আমার যথেষ্ট মান-সম্মান রয়েছে। সেটিও তারা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে শেষ করে দিয়েছে। বর্তমানে গ্লানী আর তাদের হুমকি-ধামকির আতঙ্ক নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই শ্রেয়।

এবিষয়ে অভিযুক্ত বোনদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা তাদের আপন ভাইয়ের বিষয়ে নানা কূ-মন্তব্য করেন এবং প্রতিবেদককে বিভিন্ন মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

পলাশ জানায়, এসব ঘটনার নেপথ্য ভিলেন তাদের মা পারভীন আলম। পলাশের পৈত্রিক জমিজমা বিক্রি করে তার মা সেই টাকায় মেয়েদের নামে পিতার বাড়ির পাশে জমিজমা কিনে দিয়েছেন। এই ঘটনায় পলাশকে মামলা দিয়ে জেলও খাটিয়েছেন তার মা। ফলে একই বাড়িতে থেকে মা-ছেলের মধ্যে কথোপকথন হয় না দীঘদিন ধরে।

বিষয়টি নিয়ে তাদের মা পারভীন আলমের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, কোন মা কি চায় তার সন্তানকে জেল খাটাতে কিংবা মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে পাঠাতে। যা করেছি তার ভালোর জন্য। বর্তমানে নিরুপায় হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগী ও তার স্ত্রী-সন্তানরা!

আপনার স্যোসাল মাধ্যমে শেয়ার দিন

এই বিভাগের আরো খবর
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | তিস্তা সংবাদ.কম
Theme Customization By NewsSun