1. jfjoy24@gmail.com : admin :
  2. wordpressdefaults@gmail.com : defaults :
"বেটা মানুষ করার থেকে কুকুর পালা ভালো" | তিস্তা সংবাদ
শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
পীরগাছা থানা পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ আটক – ৪ সারাদেশে ৩ দিনের হিট অ্যালার্ট জারি স্বর্ণ চুরির অপবাদ দিয়ে কিশোরী গৃহকর্মীকে গরম ছ্যাঁকা বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের দেয়াল ভেঙে ভেতরে বাস, প্রাণ গেল প্রকৌশলীর দেশে প্রতিদিন সড়কে প্রাণ হারাচ্ছেন ১৬ জনের বেশি সমবায় কৃষি নিশ্চিত হলে দেশে কখনো খাদ্যাভাব হবে না: প্রধানমন্ত্রী পীরগাছায় প্রাণীসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত এমপি-মন্ত্রীর স্বজনদের উপজেলা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে আ.লীগের নির্দেশনা মেরিনা তাবাশ্যুম: টাইম ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, ১৭ মামলার আসামি ধরা

“বেটা মানুষ করার থেকে কুকুর পালা ভালো”

ফেরদৌস জয়
  • আপডেট শুক্রবার, ২৯ মার্চ, ২০২৪
  • ২৪

 

 

“ব্যাটা মানুষ করার থেকে কুকুর পালা ভালো কারণ দিনশেষে কুকুর মালিককে খুঁজে বেড়ায় কোথায় গেল মালিক। কিন্তু আমার ছেলে মেয়ে কখনোই আমার খোঁজ নেয় না”কথাগুলো আক্ষেপ নিয়ে বলছিলেন ষাটোর্ধ বৃদ্ধ রইচ উদ্দিন।

 

কাউনিয়ার বাসিন্দা এই বৃদ্ধ সাত মাস থেকে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের গুলাল বুদাই এলাকায় বৃদ্ধাশ্রমে আছেন। নিজের আক্ষেপ নিয়ে তিনি আরো বলেন”প্রায় ২২ দোন মাটির মালিক আমি দুই ছেলে ও তিন মেয়ে মিলে সবকিছু ভাগ বাটোয়ারা করেছে এরপর আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তারা।

কথাগুলো এভাবে বলার কারণ এসএসসি ৯৭ তম ব্যাচ বাংলাদেশ এর আয়োজনে (২৬ মার্চ মঙ্গলবার) ইফতার করছিলেন এই বৃদ্ধ ।ইফতার করতে করতেই ভাব বিনিময়ের এক পর্যায়ে এসে ওই বাবা এরকম কথা বলেন যা শুনে উপস্থিত সবার চোখেই পানি চলে আসে।

শুধুমাত্র রইস উদ্দিন নয় তার মত আরো অনেক বাবা-মা এই বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন কেউ কেউ আবার সুদূর ভারত থেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে চলে এসেছে।

৯৭ তম ব্যাচের আমন্ত্রণে আসা দৈনিক তিস্তা সংবাদের সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি কামরুল ভরসা বলেন,এখানে এসে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছি না। একজন সন্তান কিভাবে এমনটা করতে পারে সব থেকে বেশি অবাক লাগছে এটা দেখে। ছোট থেকেই বাবা-মায়েরা সন্তান লালন পালন করেন কি এমন দিন দেখার জন্য।

তিনি আরো বলেন,অনেকেই বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করেন কিন্তু তাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই বৃদ্ধাশ্রম ধরে রাখতে পারেনা। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বৃদ্ধাশ্রম গুলো হয়তো আরো ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।

৯৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাফী বলেন,মানবিক চেতনা জাগ্রত করার জন্য এসব জায়গায় আসা উচিত।আমি আমার সন্তানকে নিয়ে এসেছি শুধু পুস্তকের শিক্ষা নয় পারিবারিক অসামাজিক শিক্ষা দেওয়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

 

একই ব্যাচের শিক্ষার্থী নূরে ইলাহী সুজন বলেন,আর যেন কোন বৃদ্ধাশ্রম তৈরি না হয়। তাদের দেখে অনেক খারাপ লাগছে। আমাদের সমাজের কোন বাবা-মা বয়-বৃদ্ধ অথবা শ্বশুর-শাশুড়ি এই অবস্থায় না পরে সেদিকে আমাদের নজর রাখা উচিত।

 

 

ওই ব্যাচের আরেক সহপাঠী আফতাবুজ্জামান রায়হান বলেন,ময়নাকুঠির এই বৃদ্ধাশ্রমে এসে মনটা খারাপ হয়ে গেল। বৃদ্ধ বাবা মায়েরা কত কষ্টে থাকেন এখানে না আসলে বুঝতে পারতাম না। সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

রেজাউল আলম নামে আরেক সহপাঠি বলেন,আমরা অনেকেই এখন ভালো ভালো জায়গায় আছি সবার পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী বৃদ্ধাশ্রমে খুঁটিনাটি বিষয়গুলো সমাধান করতে পারব। সকলকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি। ইতিমধ্যেই বৃদ্ধ বাবা-মায়ের থাকার জন্য লেপ তোষক বালিশ ছাড়াও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেয়া হয়েছে।

 

এ সময় ধাপ ক্লাব,ক্লাব ৯৭ গ্রুপ, ৯৭ তম ব্যাচ বাংলাদেশের অন্যান্য সাবেক শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।

আপনার স্যোসাল মাধ্যমে শেয়ার দিন

এই বিভাগের আরো খবর
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | তিস্তা সংবাদ.কম
Theme Customization By NewsSun